দর্পণ || নিবন্ধ || বি বে ক




পোস্ট বার দেখা হয়েছে
কারণহীন কারণে নাকি কারণের ব্যাকরণে, কলমে বিবেক 
সৃজন : বিবেক
লিখতে বসার আগে আমিও রোজ সেই আত্মাকে ডাকি, আমার কলমের ধারক ও বাহক সে। অদৃশ্য আলাপের প্রলেপে মাতিয়ে রাখে নিবিড় ছন্দে। তবে কেবল লিখব বলেই কি? নাকি অন্যকিছু? বিস্তর পরিসংখ্যান আর বিশদ কিছু বিবরণ এসে ভিড় করে তখন মনের কলোনীতে। ভাবতে ভাবতে ভাবনারা নদীর মতন বয়ে যায় যখন, চৌকাঠ পেরিয়ে চেনা গৃহকোণে এসে দাঁড়ায় দামাদী এক আলোকন। শব্দের ঘরে মীমাংসার তরল পানীয় যথাসম্ভব সাজানো চেনা চৌহদ্দিতে। অবিরাম দৃষ্টি বিনিময় করে যতটুকু নির্যাস লাভ করে কোমল চোখদুটি তাতেই প্রশমিত হয় সমস্ত পরিধি। বই পড়ে অনুভব পোহানোর আড়ালে হাঁটা বেশী পছন্দ বলেই কি লিখতে বসি? ভাষার প্রাবল্যে ঢেউএর দোলায় ভিজে যায় একটা গোটা কবিতা যখন; কবির কলমে দায়িত্বের বিশুদ্ধ নিঃশ্বাস। এক নিমেষে সমাধান ঘটে যায় অমীমাংসীত আলোচনায়। যেখানে যতিচিহ্নেরা হাততালি না দিয়ে থাকতে পারে না। 

এরপর আসে ক্রম। ক্রমিক নম্বর ধরে টনিক পান করার অভ্যাসে মানবজীবন অভিজ্ঞ ঢের, আর সেই ক্রমিকের তন্নিধানেই বোধহয় মাটির উপরিতল ভারসাম্যহীন মানসিক ওজনের আধিক্যে। পিছুটানে যদি ছেড়ে যেতে হয় নরম কিছু সময়, আরামপ্রিয় মন যেন চায়না ব্যবধান; এমনই অবুঝ বুদ্ধিমান এবং মানবিক মানুষ আমরা। ভয়ের আড়ালে সাহসে ভর করে ভয়ে ভয়ে বাঁচার নেশায় জর্জরিত বুকগুলো বুকপকেটে স্বস্তির খুচরো প্রশ্বাস নিয়ে তবেই হাঁটে রাস্তায়। ধার-বাকীতে জীবন যখন, তখন ষোলোয়ানা লুটিয়ে দিতেই ক্ষতি কী? ফেরত পাবার প্রত্যাশার ভয়ের চেয়ে লুটিয়ে দেওয়ার সাহসেই হোক আগামীর আন্দোলন, যেখানে পতাকা ছাড়াই মিছিল রোজ, না ঘেমেও অস্থির হবে মন, কলমের মতন, সুখী গৃহকোণের আলোড়নে। হ্যাঁ, লিখতে বসার আগে আমিও রোজ সেই আত্মাকে ডাকি, আমার আমির সাথে হাঁটব বলে। কলমের সমান্তরালে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য