দর্পণ || কবিতাগুচ্ছ || অলিপা পাল




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

 জানিনা 

জানিনা—
আমি জানিনা
এ পোড়া চোখে-চোখ রেখেছে কে কে?
সাক্ষী দেবে,ওরা জানে
ভাত-ডাল অভিমান
বছর জুড়ে ভালো-মন্দ
একটা জন্মদিন; মুহূর্তে'রা ভালো
জীবন ছড়ানো,অগোছালো;
তোমার আমার নিবিড় মাখামাখি
সাক্ষী দেবে,ওরা জানে
জানালায় বসে থাকা রাত,ভোরের নরম আলো
কলকাতা বই মেলা হয়ে টালিগঞ্জ মেট্রো   থেকে
করুণাময়ী মন্দির
দুজন দুজন'কে রাঙানো আবির
দীঘা'র সমুদ্র;আছড়ে পড়া কী যে ভীষণ ঢেউ
ওরা সাক্ষী দেবে,দেখেছে;দেখবে;
এগুলো তোমার সাথে বার বার ঘটেছে
জীবন বৃত্তীয়;স্থান পরিবর্তন
আমার জায়গায় সে
তার জায়গায় অন্য কেউ

মুছে গেছে গাঢ় বিধিলিপি
স্বপ্ন;আকাঙ্খা;আবেগ
শূন্য শুধু সত্য
অসীম;শুরু নেই শেষ নেই
স্থির;পরিপূর্ণ
আসবে কি অন্য কোন মেঘ !
অপেক্ষা—
****

আগুন ফুল

তুমি ফোটালে মাধবীলতা
এই শীতে,অবেলায়
গভীর কুয়াশায়
চারিদিকে কাপুরুষতা
নিরাশ্রয় পিছুটান
যদিও,ক্রুশবিদ্ধ হওয়া শেষ কথা নয়
শুধু একটা শরীর রক্তাক্ত হয়
নির্লিপ্ত তারা,যারা পেরেক পোঁতে
রক্ত দেওয়া যেনো মহিমার
কিছুই হারানোর নেই
যদি ক্রুশটাকেই ভেঙে ফেলতে পারতাম!
পুরনো বিশ্বাসের বিপরীতে অর্জন
শিকল মুক্ত;প্রত্যয়ী আমি
নূতন করে পড়ি বর্ণপরিচয়
সাক্ষী প্রকৃতি,আর সাক্ষী শুধুই তুমি
নদী হয় না মলিন
তুমি ফোটালে আগুন ফুল
মাধবীলতা;এই শীতে
কদর্য প্রাণনাশ;চোখ রাঙাক গ্যালিলিও
তবুও সূর্য উঠবে
পৃথিবী ঘুরবে
গলা দেবো না হাড়িকাঠে
****

 লগন এলে 

কথা'রা সব চাবি'র মত
খোলা বন্ধ খেলায়
আকাশ যদি রঙিন হতাে
অবাক ভাের বেলায়
আমার মুখ; তুললে হাতে
লজ্জারাঙা ফিরিয়ে নিলাম চোখ
সারা গায়ে মাটির স্পর্শ;প্রেমের গানে,
তুষার পাহাড় যেন অগ্নিময়
খোঁপায় কাঁপে মাঘের শীত
ঘুমের দেহে রাত্রি স্বপ্নময়
মেঘের গাড়ি কাদায় ঠেকে
গভীর বিষাদ;আহ্লাদি আবরণ
চুমু খাওয়ায় কার আরগ্য!
উঠবে ওড়না;
মোমের আলো ধূপের মত গলে
যদিও রাত রূপসী;প্রেম গভীর;নিষ্ঠুরতাও
জানলে,কবিতা তোমার লেখা হত না
বাসলে ভালো;লগন এলে,ফুল কুড়ানো'র ছলে
আমার কপালে,ঠোঁটে;
লাল পলাশ মিশিয়ে দিলে শেষে
রোজ রাতে এ দৃশ্য দেখি
চাঁদকে ছাড়িয়ে রূপকথার রাজপুত্র 
পঙ্খীরাজে উধাও শূন্যে ভেসে
 জারি

বাঁচালেই যখন মাধবীলতাকে—
আরও কিছু দিন বেঁচে থাকতে চাই
আরও কিছু দিন—
এই তুষারপাতেও
ফেলে দিয়েছি,ফেলেই দিলাম
পুরোনো কবিতার খাতা
স্মৃতির কুয়ো ছাঁচতে গিয়ে দেখি
সেখানে ভুল জমে ছিলো,প্রতারণাও
বরং নূতন করে লিখি
নূতন কলমে,সে সরল;শিশুর মত
পাপ লাগেনি তার গায়ে
সাজবে স্বপ্ন আবারও
তাই,বেঁচে থাকতে চাই
ছেলেবেলার মায়ের দেখানো স্বপ্নের মধ্যে
সে স্বপ্নে থাকে না ভয়,তিক্ত অভিজ্ঞতা;
তবে কলমকে মজবুত রাখাচাই
মাধবীলতা বড়ো জড়িয়ে জড়িয়ে থাকে
বরং প্রেমের কবিতা লেখা যায়!
কে পোঁছে এসব কবিতা ! অসময়;
আবার সেই ভয়,হুকুম পালনের
না না বেঁচে থাকতে চাই
আরও কিছুদিন
মেরুদণ্ড সোজা ঠিক রাখা যায়
ভয় সমাজের সব সত্যি নয়
এখন অ আ ক খ ওরা পড়তে জানে
ফুটপাতের ছেলে আকাশে কৌমুদী জ্বালে
এমন পৃথিবী চাই
ঘুমন্ত শিশু মায়ের আঁচলে শান্তি জড়ায়
কান্না নয়,ভরে যাক শস্য দানায়
বিনা যুদ্ধে হয় না সূচ্যগ্র মেদিনী
এবার বলি ! এসো দোস্ত 
লড়াইটা জারি রাখি
****

 তুমি দিলে

তুমি দিলে
তুমিই দিলে,মাধবীলতাকে
নভো-নীল;মেঘ মুক্ত নীলাকাশ
কত দিন যেনো দেখিনি প্রকৃতি
এত দিন ছিলো বাতাস মানে,বুকের মধ্যে 
শুধুই বিষ
অবিরত হলুদ পাতা ঝরতো,নিদারুণ হাহাকারে
চারিদিকে কশাইখানা;বন্দি যাপন
বধির যারা কুড়ায় বাহবা;
নিঃশ্বাস নিতেও মানা,গন্ধে বাতাস ভারি হয়ে যেতো
জানালা নেই, দরজা থাকাও যেন অঘটন
কালো রাত কখনো কাটছিলো না
কত ডাকলাম রোদ্দুর এপথে এলো না
তুমি এলে,
তুমি দিলে, মাধবীলতাকে
মনের স্পর্শে পুনর্জন্ম
তুমি কি মন্ত্র যানো!
সূর্য আবার উঠলো
সাদা পাখি'রা উড়লো
ছড়ায় সোনার আলো
চোখের জলে ধুয়ে গিয়েছে সব কালো
তুমি ফুল-ফাগে মন সাজালে
কি দেবো তোমায় বলো!
 নগণ্য লাল হৃৎপিণ্ড দিলাম
ভয় নেই !সকলের পরিত্যক্ত
অনেকে ছুরি উঁচিয়ে ছিলো
আর রক্তের দাগ নেই
জড়িয়ে দিয়েছি প্রেমের ফুলে
শুনেছি,আগুন ছাড়া হয় না ভালোবাসা
****

 পৌঁছে গিয়েছি

মুখ  ঢাকবো না
খুলে দিয়েছি
কারণ, তোমার মধ্যে আমি পৌঁছে গিয়েছি
আর ভাবনা কি ! বলো বেঁধে থাকি,
চোখ খুলবে বৈকি!
যৌবনের তাজা রক্ত মাংস;
জখম গুলো দেখছি এই বার
ফোঁটায় ফোঁটায় লাল
কবিতায় যন্ত্রণা কথা বলে!
শুনে রক্তও নেচে ওঠে, যেন আলোয় বান ডাকে!
সময়,কালবেলায় লাল নিশানাকে নিয়ে যে কি ভীষণ খেলা করে !
সেই সময় ! ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলে দেখায় মানুষের পৃথিবী 
পেটের আগুন নেভাতে,জলন্ত উনুনের সাথে দিন যেতো
জীবনকে কেটে সাজিয়েছি সব্জির থালায়
এঁটো বাসনে থাকা লঙ্কার বীজ আর মশলাদার ঝোলে,নাভি থেকে ছেঁকে নিজেকে নিংড়ে, নিয়মিত পরিবেশিত হয়েছি থালায়
তবুও আমার কাছে ছিলো ম্যাকবেথের ছুরি
তখনো শুনেছি! আওয়াজ উঠছে
এবার খেয়াল করছি!
তোমাদেরই মিছিল যাচ্ছে
কারণ তোমার মধ্যে আমি পৌঁছে গিয়েছি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

3 মন্তব্য

  1. অপূর্ব কিছু কবিতা গুচ্ছো । প্রতিটি কবিতাই জীবনের উত্তরণের কথা বলে ।সে প্রেমই হোক আর জীবন সংগ্রামই হোক ।গুমোট অপরাহ্নের পর কালবৈশাখীর স্নিগ্ধতা নিয়ে আসে এই কবিতামেলা। নামটি ভারি চমকপ্রদ! "মাধবীলতা" । নামটির সাথেই জড়িয়ে আছে - প্রেম, রাজনীতি এবং বাঁচার লড়াই। বেঁচে থাক "কালবেলা" ।

    উত্তর দিনমুছুন
  2. সুন্দর সব কবিতা। মনে হল মাধবীলতা তোমার প্রিয় ফুল। আমারও এমনই কিছু শব্দ বারবার এসে যায়। খুব ভাল লাগল।

    উত্তর দিনমুছুন